বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
ফরহাদ হোসেন আজাদের নামে ভুয়া ভিডিও-ছবি প্রচারের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করলো ৬০ বিজিবি কৃষকের চেকে ৫ লাখ টাকার অঙ্ক, কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ লালমনিরহাটে চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা: ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ গাইবান্ধায় জলবায়ু সহনশীল পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের যাত্রা শুরু গাইবান্ধা নিয়ে রংপুর-বগুড়ার টানাটানি, রংপুরের শিকড় ছাড়তে নারাজ গাইবান্ধা বিদ্যালয়ের কমনরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা, ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ভেজাল লবণের ব্যবহার: তিন প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ টাকা জরিমানা পঞ্চগড়ে ফেসবুক পোস্টে সাড়া, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর হাতে নতুন হুইলচেয়ার তুলে দিলেন ইউএনও লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালক অপহরণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
কৃষকের চেকে ৫ লাখ টাকার অঙ্ক, কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

কৃষকের চেকে ৫ লাখ টাকার অঙ্ক, কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) থেকে দুটি সেচ মোটর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, ব্যাংক হিসাব খুলিয়ে দুটি চেকের পাতা, জমির মূল দলিল, বিএস/বিআরএস পর্চা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

অভিযোগের তীর উঠেছে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মো. শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি মাই টিভির সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি এবং উপজেলার জয়েনপুর (তুলসীঘাট রোড) গ্রামের মৃত জসিজল হকের ছেলে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুটি সেচ মোটরের জন্য আবেদন করেছিলেন। তার ফুফাতো ভাই আনিছার রহমানের মাধ্যমে শাহীন মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে শাহীন মিয়া বিএমডিএ থেকে মোটর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তার কাছ থেকে ৮ হাজার ৩০০ টাকা নেন।

তিনি দাবি করেন, কিছুদিন পর শাহীন মিয়া জানান, মোটর বরাদ্দ নিতে হলে অফিসে দুটি ব্যাংক চেক জমা দিতে হবে। তার কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকায় শাহীন মিয়া নিজেই অগ্রণী ব্যাংক, সাদুল্লাপুর শাখায় একটি হিসাব খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর শাহীন মিয়া তাকে সাদুল্লাপুর বাজারে ডেকে ব্যাংকে নিয়ে যান এবং একটি হিসাব খুলে দেন। হিসাব খোলার পর ব্যাংক থেকে একটি চেকবই দেওয়া হলে শাহীন মিয়া সেখান থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাতার দুটি চেক ছিঁড়ে নেন। এছাড়া চেকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে তার কাছ থেকে টিপসইও নেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় শাহীন মিয়া তার ২৬ শতক জমির মূল দলিল, একটি জমির রেকর্ডের পর্চা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও নিজের কাছে রেখে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি অশিক্ষিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে টাকা, চেক, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি শাহীন মিয়ার কাছে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাত, টালবাহানা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জজ আদালতে প্রতারণার মামলা (নং-৩২/২১) দায়ের করেন।

তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর শাহীন মিয়া তার কাছ থেকে নেওয়া চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা লিখে উল্টো সেই টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের একটি সিআর মামলা দায়ের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিবেশী লিটন মিয়া। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাদের দাবি, একসময় তিনি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘোরাফেরা করতেন। পরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন সহজ-সরল কৃষক। সরল বিশ্বাসে অভিযুক্তের কথায় টাকা, চেক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং উল্টো বিভিন্ন মামলায় হয়রানির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।’

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহীন মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com